বাচ্চার ঘুমের রুটিন ভাঙা – নতুন মায়েদের জন্য সহজ ব্যাখ্যা
January 21, 2026

প্রিয় মা,
আপনার বাচ্চা যদি রাতে বারবার জেগে ওঠে, ঘুমাতে দেরি করে বা দিনে বেশি ঘুমায়—তাহলে প্রথমেই আপনি ভাবেন,
“আমার বাচ্চার ঘুমের কোনো সমস্যা হচ্ছে নাকি?”
এরপর আরেকটা প্রশ্ন আসে,
“আমি কি কোথাও ভুল করছি?”
এই প্রশ্নগুলো খুব স্বাভাবিক।
প্রায় সব নতুন মা-ই এই অবস্থার ভেতর দিয়ে যান।
সত্যিটা হলো—
বাচ্চার ঘুমের রুটিন ভাঙা মানেই কোনো বড় সমস্যা নয়।
কিন্তু কেন এমন হয়, সেটা না বুঝলে দুশ্চিন্তা বাড়ে।
এই লেখায় আমরা খুব সহজ ভাষায় বুঝবো—
- বাচ্চার ঘুমের রুটিন আসলে কী
- কেন সেটি ভেঙে যায়
- আর মা হিসেবে আপনি কীভাবে ধীরে ধীরে ঠিক করতে পারেন
ঘুমের রুটিন মানে কী?
ঘুমের রুটিন মানে হলো—
- কখন বাচ্চা ঘুমায়
- কতক্ষণ ঘুমায়
- কখন জাগে
বড়দের মতো বাচ্চাদের ঘুম একটানা হয় না।
বিশেষ করে নবজাতকের ক্ষেত্রে।
অনেক মা ভাবেন—
“দিনে ঘুমায়, রাতে জাগে—এটা কি ভুল?”
না, এটা অনেক সময় স্বাভাবিক।
কেন নতুন বাচ্চাদের ঘুমের রুটিন ভেঙে থাকে?
১. বাচ্চা দিন–রাতের পার্থক্য বুঝে না
নবজাতক বাচ্চা মায়ের পেট থেকে বের হয়ে আসে এমন এক জগতে,
যেখানে আলো, শব্দ, সময়—সবকিছু আলাদা।
তাদের শরীর এখনো বুঝে না—
দিন মানে জেগে থাকা
রাত মানে ঘুমানো
এই বুঝটা তৈরি হতে সময় লাগে।
তাই:
- দিনে লম্বা ঘুম
- রাতে বারবার জেগে ওঠা
এটা খুব সাধারণ বিষয়।
২. ক্ষুধা ও ঘুম একসাথে চলে
বাচ্চার পেট ছোট।
তারা অল্প অল্প করে বারবার খায়।
ফলে:
- ঘুমের মাঝখানে ক্ষুধা লাগে
- ঘুম ভেঙে যায়
- কান্না শুরু হয়
অনেক মা ভাবেন—
“এতবার ঘুম ভাঙা কি স্বাভাবিক?”
হ্যাঁ, প্রথম কয়েক মাসে এটি স্বাভাবিক।
৩. গ্যাস বা পেটের অস্বস্তি
খাওয়ার পর ঢেঁকুর না উঠলে
বা পেটে গ্যাস হলে
বাচ্চা আরামে ঘুমাতে পারে না।
তারা কথা বলতে পারে না,
তাই কাঁদে, নড়াচড়া করে।
ফলে মা মনে করেন—
“ঘুমের রুটিন নষ্ট হয়ে গেছে।”
আসলে বাচ্চা অস্বস্তিতে আছে।
৪. দিনের বেলার অতিরিক্ত উত্তেজনা
অনেক সময় আমরা খেয়াল করি না—
দিনের বেলায় বাচ্চা কত কিছু দেখে, শোনে।
- বেশি মানুষ
- জোরে কথা
- টিভির শব্দ
- বারবার কোলে নেওয়া
এসব কারণে বাচ্চা ক্লান্ত হলেও
ঠিকভাবে ঘুমাতে পারে না।
ফলে রাতে ঘুম ভাঙে।
৫. প্রতিদিনের সময় এক না হওয়া
একদিন বাচ্চা ঘুমায় ৯টায়
আরেকদিন ১২টায়
একদিন আলো জ্বালিয়ে ঘুম
আরেকদিন অন্ধকারে
এভাবে সময় আর পরিবেশ বদলালে
বাচ্চার শরীর বিভ্রান্ত হয়ে যায়।
ঘুমের রুটিন ভেঙে যায়।
এতে কি মায়ের দোষ?
এই প্রশ্নটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
না।
বেশিরভাগ সময় এটা মায়ের দোষ নয়।
নতুন মা নিজেও:
- কম ঘুমান
- ক্লান্ত থাকেন
- অনেক পরামর্শ শোনেন
এই অবস্থায় সব কিছু নিখুঁত করা সম্ভব নয়।
তাই নিজেকে দোষ দেবেন না।
ধীরে ধীরে ঘুমের রুটিন ঠিক করা কীভাবে সম্ভব?
এখানে “ধীরে ধীরে” কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
১. রাতের জন্য আলাদা পরিবেশ তৈরি করুন
রাতে:
- আলো কম রাখুন
- কথা আস্তে বলুন
- টিভি বা মোবাইলের শব্দ কমান
বাচ্চা বুঝতে শুরু করবে—
এটা ঘুমের সময়।
২. প্রতিদিন একই রুটিন অনুসরণ করুন
একই সময়ে:
- কাপড় বদলানো
- খাওয়ানো
- কোলে নিয়ে শান্ত করা
এই ছোট কাজগুলো
বাচ্চাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে।
৩. খাওয়ানোর পর ঢেঁকুর তুলুন
এটা খুব ছোট কাজ,
কিন্তু ঘুমের জন্য খুব জরুরি।
ঢেঁকুর উঠলে:
- পেট হালকা থাকে
- অস্বস্তি কমে
- ঘুম গভীর হয়
৪. বাচ্চা কাঁদলেই ঘুমের সমস্যা ভাববেন না
সব কান্না ঘুমের কারণে হয় না।
কখনো:
- কোলে নিতে চাই
- গরম লাগছে
- ঠান্ডা লাগছে
এই কারণেও কাঁদে।
একটু বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করুন।
৫. মায়ের নিজের ঘুম ও মানসিক শান্তি
মা যদি খুব টেনশনে থাকেন,
বাচ্চাও সেটা অনুভব করে।
আপনি যদি একটু শান্ত থাকেন,
রুটিন ধীরে ধীরে ঠিক হতে শুরু করবে।
কখন ডাক্তার দেখানো দরকার?
যদি:
- বাচ্চা একদমই ঘুমাতে না পারে
- ওজন বাড়ছে না
- অতিরিক্ত কান্না থাকে
- জ্বর বা অসুস্থতা থাকে
তাহলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন।
কিন্তু শুধু ঘুম ভাঙলেই
ভয় পাওয়ার দরকার নেই।
শেষ কথা
বাচ্চার ঘুমের রুটিন ভাঙা
নতুন মায়েদের জীবনের খুব সাধারণ অংশ।
এটা মানে এই নয় যে
আপনি খারাপ মা।
আপনি শিখছেন,
বাচ্চাও শিখছে।
ধৈর্য ধরুন,
ছোট ছোট পরিবর্তন করুন।
প্রিয় মা,
আপনি যদি চান সহজ, বাস্তব এবং কার্যকরী safety টিপস নিয়মিত পেতে, তাহলে BabyBliss-এর সাথে যুক্ত থাকুন। আমরা নতুন মায়েদের জন্য এমন সব গাইড শেয়ার করি যা কার্যকর এবং সহজে করা যায়।
শেয়ার করুন আপনার টাইমলাইনে
হাজার হাজার মায়ের ভরসা আর আস্থার স্থান আমরাই



















