নবজাতকের গোসল কতদিন পরপর, কীভাবে করবেন, আর কী এড়িয়ে চলবেন
January 20, 2026

নবজাতকের গোসল নিয়ে এত বিভ্রান্তি কেন
নতুন মা হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নগুলো আসে, তার মধ্যে নবজাতকের গোসল অন্যতম। কেউ বলেন প্রতিদিন গোসল করাতে হবে, কেউ বলেন সপ্তাহে একবারই যথেষ্ট। এই ভিন্ন ভিন্ন পরামর্শের ভিড়ে অনেক মা দ্বিধায় পড়ে যান। বিশেষ করে প্রথম সন্তান হলে এই দ্বিধা আরও বেড়ে যায়।
আসলে নবজাতকের গোসল কোনো নিয়মের বই দিয়ে ঠিক করা যায় না। শিশুর বয়স, আবহাওয়া, ত্বকের অবস্থা এবং পরিবারের পরিবেশ—সব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু কিছু মৌলিক বিষয় জানা থাকলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।
নবজাতকের ত্বক ও গোসলের সম্পর্ক
নবজাতকের ত্বক খুবই নরম এবং সংবেদনশীল। জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে ত্বক নিজেকে বাইরের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এই সময়ে অতিরিক্ত পানি, সাবান বা ঘষাঘষি ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তর নষ্ট করে দিতে পারে।
অনেক মা ভাবেন গোসল না করালে শিশুর ত্বক নোংরা থাকবে। কিন্তু বাস্তবে নবজাতক খুব বেশি নোংরা হয় না। নিয়মিত ডায়াপার পরিবর্তন, মুখ ও শরীর পরিষ্কার রাখলেই বেশিরভাগ সময় শিশুর পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে।
কতদিন পরপর নবজাতকের গোসল করানো উচিত
নবজাতকের জন্য প্রতিদিন গোসল বাধ্যতামূলক নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার গোসল করানোই যথেষ্ট। বিশেষ করে যদি আবহাওয়া ঠান্ডা হয় বা শিশুর ত্বক শুষ্ক থাকে, তাহলে গোসলের সংখ্যা আরও কম হতে পারে।
গোসল না করার দিনগুলোতে কুসুম গরম পানিতে ভেজানো নরম কাপড় দিয়ে শিশুর মুখ, গলা, হাত-পা ও ডায়াপার এরিয়া পরিষ্কার করে নেওয়া যায়। এতে শিশুও পরিষ্কার থাকে এবং ত্বকও নিরাপদ থাকে।
গোসলের সঠিক সময় ও পরিবেশ
নবজাতকের গোসলের জন্য দিনের এমন একটি সময় বেছে নেওয়া উচিত, যখন ঘর উষ্ণ থাকে এবং আপনি তাড়াহুড়োতে থাকবেন না। অনেক মা সকালে বা দুপুরে গোসল করাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। রাতে গোসল করানো সাধারণত এড়িয়ে চলাই ভালো, বিশেষ করে ঠান্ডার সময়।
গোসলের জায়গাটি শান্ত ও নিরাপদ হওয়া জরুরি। ঠান্ডা বাতাস যেন সরাসরি না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গোসলের আগে সব প্রয়োজনীয় জিনিস হাতের কাছে রাখলে মাঝপথে শিশুকে একা রেখে যেতে হয় না।
পানি ও তাপমাত্রা নিয়ে যা জানা জরুরি
নবজাতকের গোসলের জন্য কুসুম গরম পানি সবচেয়ে নিরাপদ। খুব গরম বা খুব ঠান্ডা পানি শিশুর ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। পানি দেওয়ার আগে নিজের হাত দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করা একটি ভালো অভ্যাস।
গোসলের সময় শিশুকে পানির ভেতরে বেশি সময় রাখার দরকার নেই। কয়েক মিনিটেই গোসল শেষ করা যায়। দীর্ঘ সময় পানিতে রাখলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
সাবান ও ক্লিনজার ব্যবহারে সতর্কতা
নবজাতকের গোসলের সময় সবসময় সাবান ব্যবহার করা প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে এক বা দুইবার মাইল্ড ক্লিনজার ব্যবহার করলেই সাধারণত যথেষ্ট। প্রতিদিন সাবান ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক তেল উঠে যায়।
অনেক মা সুগন্ধিযুক্ত বা ফেনা বেশি হয় এমন প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন, যেগুলো শিশুর ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়। গোসলের জন্য এমন প্রোডাক্ট বেছে নেওয়া উচিত যা বিশেষভাবে শিশুর সংবেদনশীল ত্বকের জন্য তৈরি।
BabyBliss-এর Bath & Hygiene ক্যাটাগরির কিছু প্রোডাক্ট এই কারণেই হালকা ফর্মুলায় তৈরি, যাতে গোসলের সময় ত্বকের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
গোসলের ধাপগুলো সহজভাবে বুঝে নেওয়া
গোসলের সময় প্রথমে শিশুর মাথা ভেজানো যায়, তারপর ধীরে ধীরে শরীর। খুব জোরে পানি ঢালা বা ঘষাঘষি করা উচিত নয়। হাত দিয়ে আলতোভাবে পানি ছড়িয়ে দেওয়া যথেষ্ট।
গোসল শেষ হলে শিশুকে সঙ্গে সঙ্গে নরম তোয়ালে দিয়ে মুড়িয়ে নিতে হবে। তোয়ালে দিয়ে ঘষে শুকানোর বদলে আলতোভাবে চাপ দিয়ে পানি শুষে নেওয়াই ভালো।
গোসলের পর ত্বকের যত্ন
গোসলের পর শিশুর ত্বক কিছুটা শুষ্ক হতে পারে। এই সময় হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। খুব বেশি কিছু লাগানোর প্রয়োজন নেই। অল্প পরিমাণেই বেশিরভাগ সময় যথেষ্ট।
বিশেষ করে ভাঁজের জায়গাগুলো ভালোভাবে শুকানো জরুরি। সেখানে ভেজা ভাব থাকলে র্যাশ বা ফাঙ্গাল সমস্যা হতে পারে।
নবজাতকের গোসলে যে বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন
নবজাতকের গোসলের সময় কিছু বিষয় একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত। যেমন খুব ঠান্ডা ঘরে গোসল করানো, একা রেখে দেওয়া, বা তাড়াহুড়ো করে গোসল শেষ করার চেষ্টা করা। এছাড়া একসাথে অনেক নতুন প্রোডাক্ট ব্যবহার করাও ঠিক নয়।
যদি কোনো নতুন ক্লিনজার বা প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন, তাহলে প্রথমে শিশুর ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
গোসল নিয়ে মায়ের মানসিক চাপ কমানো কেন জরুরি
অনেক মা গোসল করানোর সময় খুব দুশ্চিন্তায় থাকেন। শিশুকে ঠিকভাবে ধরতে পারছেন কি না, পানি বেশি গরম হয়ে যাচ্ছে কি না—এই চিন্তাগুলো স্বাভাবিক। তবে এই চাপ কমানো খুব জরুরি।
গোসল শিশুর জন্য শুধু পরিষ্কার থাকার বিষয় নয়, এটি মা ও শিশুর মধ্যে একটি সুন্দর সময়ও হতে পারে। ধীরে, শান্তভাবে করলে মা ও শিশু দুজনই এতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
BabyBliss কীভাবে এই জায়গায় পাশে থাকে
BabyBliss বিশ্বাস করে, নবজাতকের যত্ন মানে নিয়মের চাপ নয়, বরং পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া। তাই গোসলের ক্ষেত্রেও একটাই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।
সঠিক তথ্য, সহজ গাইড এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোডাক্ট অপশন—এই তিনটির সমন্বয়েই BabyBliss মায়েদের পাশে থাকতে চায়।
শেষ কথা
নবজাতকের গোসল কোনো কঠিন কাজ নয়, যদি আপনি মৌলিক বিষয়গুলো বুঝে নেন। প্রতিদিন গোসল করানো জরুরি নয়, আবার একেবারে এড়িয়ে যাওয়াও ঠিক নয়। শিশুর ত্বক, আবহাওয়া এবং আপনার সুবিধা—সবকিছু বিবেচনা করে ভারসাম্য রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মা হিসেবে আপনার শান্ত মনই শিশুর জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।
শেয়ার করুন আপনার টাইমলাইনে
হাজার হাজার মায়ের ভরসা আর আস্থার স্থান আমরাই



















